দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ড. খলিলুর রহমান।
তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ঢাকা আশা করছে, দিল্লি এতে ইতিবাচক সাড়া দেবে।
ভারতের শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ স্পষ্ট করে ভারতকে জানিয়েছে। ভারত এটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ওপর বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। ভারত তা করতে দিয়েছে। এ ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না বলে ভারত আশ্বস্ত করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হেয় প্রতিপন্ন হয় এমন কোনো কিছু ভারত করবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী।
এসময় ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাওয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান মন্ত্রী।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়৷
বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।
একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতবিনিময়ের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে গত বুধবার হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি হয়। এ উত্তেজনার পর্ব পেরিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ এখন আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক ইতিবাচক পথে আনতে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
গত জুন মাসে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীনেশ ত্রিবেদী এই প্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে গতকাল রোববার বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার। শুরুতে দুই পক্ষের কর্মকর্তারা আলোচনায় উপস্থিত থাকলেও পরে আধা ঘণ্টার বেশি সময় তাঁরা একান্তে কথা বলেন। বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল।
গত ২৫ জুন রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে ঢাকায় ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে কাজ শুরু করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর ২৯ জুলাই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন। গতকাল দ্বিতীয়বারের মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। সম্পর্ক ইতিবাচক পথে ফেরাতে এটাই পথ। পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা আর স্বার্থ সমুন্নত রেখে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি এক দেশকে অন্য দেশের সংবেদনশীলতার প্রতিও যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল হওয়াটা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজকের সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভেক) শিশুদের জন্য খেলার জায়গা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই অনেক সম্মান করি। আমি অনেকবার তাঁর বক্তৃতা শুনেছি। তিনি একজন জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব ব্যক্তি।’
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, যখন দুই নেতার দেখা হয়, অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। সমস্যার সমাধান হয় যখন আমরা কথাবার্তা বলি। আমার তো পুরো বিশ্বাস যে মানুষ এক আছে। সমাধান (সলিউশন) হবে। এখানটায় কোনো নেতিবাচক বিষয় নেই। সব ইতিবাচক।’
কে